বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ভোর ০৪:০২
ব্রেকিং নিউজ

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ও প্রত্যাশা

রিপোর্টার : নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শুক্রবার , ৩০ জুন ২০২৩ , রাত ১১:৪৮

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের সর্বোত্তম উপায় হলো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন।নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দমতো লোকদেরকে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে পারে।উন্নত দেশগুলোতে নির্বাচনে কোনোপ্রকার কারচুপি হয় না বলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হওয়ায় গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো খুবই দুর্বল।ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিদ্যমান।গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন একান্ত প্রয়োজন।অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল না হয় তবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।কেননা নির্বাচন পরিচালনার সকল দায়িত্বই নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত।ভোটার তালিকা প্রণয়ন,নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা,নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়ন এবং নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত।সুতরাং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ছাড়া অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদেরকে নিয়োগ দান করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় রাষ্ট্রপতি সরকার ও বিরোধী দল বিশেষত সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সাথে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করলে অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।প্রচলিত ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।ফলে তারা কোন না কোনভাবে রাজনৈতিক দল দ্বারা প্রভাবিত হন,যা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হিসেবে কাজ করে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে।ফলে কালো টাকার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যদি প্রার্থীদের নির্বাচন বাবদ যে টাকা খরচ হয় তার পুরোটাই ব্যয় হয় তাহলে অপচয় রোধ হবে।তাছাড়া প্রার্থীরা কমিশনের মাধ্যমে লিফলেট,সভা-সমিতি,পোস্টার ও প্রচারকার্য চালালে একদিকে খরচ কম হবে।অন্যদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। পোস্টার,লিফলেট ব্যতিরেকে প্রয়োজনে সীমিত প্রচারণায় কমিশনের দায়িত্বেই এ কাজটি হলে অনেক অশান্তি ও সহিংস ঘটনা থেকে জাতি রক্ষা পাবে।

নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।এরই মধ্যে বাতাসে নানা গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে।চলতি বছরের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।কিন্তু শুধুই সংবিধানের দোহাই এবং নির্বাচনের জন্য নির্বাচন হলে ভালো হবে কি?সার্থক নির্বাচনের জন্য দরকার সব দলের ও সব মতের লোকের অংশগ্রহণ।এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই মুখ্য,তবে সরকারকে অবশ্যই সহায়ক হতে হবে।মেয়াদপূর্ণ হওয়ার পর নতুন মেয়াদে নতুন সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যে নির্বাচন অপরিহার্য।কিন্তু সেই নির্বাচন কিভাবে হবে?কারা করবে?নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে কি?না আগামী নির্বাচনও ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো একতরফা হবে?এসব প্রশ্নের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেয়ার সময় এখনো আসেনি।সব দলকে নির্বাচনে আনতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।সব নাগরিক যেন তাদের ভোট তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে স্বাধীনভাবে দিতে পারে,নির্বাচন কমিশনকে যথাযথভাবে তা নিশ্চিত করতে হবে।তাহলেই জনগণ তাদের প্রাপ্য অধিকার ভোগ করতে পারবে।একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব¡শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।নির্বাচনের জন্য আবশ্যিক শর্ত,সবার জন্য মাঠ সমতল করা।এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিলে শুধু মতবিনিময় সভা করে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।নির্বাচন কমিশনকে আগে থেকেই বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা করে সুষ্ঠু ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আস্থার সঙ্কট দূর করতে হবে।অন্যান্য দলকেও সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।তবে জনগণ পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দেবে,সেই ক্ষেত্রটি তৈরি করার প্রধান দায়িত্ব¡নির্বাচন কমিশনেরই।

গণতন্ত্রের পূবর্শত সুষ্ঠু নির্বাচন।একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে একটি সুন্দর সংসদ উপহার দিতে পারে।সব দল অংশ নিলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না।এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বর্পূণ।এর বাইরে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বজনগ্রাহ্য মতগুলো নিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি বিতর্কিত হয়,তাহলে দেশ ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেশবাসীর।মনে রাখতে হবে,রাজনীতিকদের কোনো অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত বা ভুলের কারণে যদি দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়ে,নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়,তাহলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।

গণতন্ত্র একটি রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত।আর গণতন্ত্র মানে আত্মমর্যাদা ন্যায়বিচার,সুশাসন,মানবিক উন্নয়ন অর্থাৎ একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্য,সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করা।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য,আজও সেসব গণতান্ত্রিক চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরবির্তন হয়।নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বাংলাদেশে যে কয়টি রাজনৈতিক দল রয়েছে,বিশেষ করে বড় দুই দলের নেতারা যোগ্য ও অভিজ্ঞ তারা এ দেশেরই সন্তান এবং এদেশের মাটিতেই জন্ম।এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।এ দেশের মাটি ও মানুষের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।যদি তাই হয়ে থাকে,তাহলে কোনো কারণে যদি বড় দুই দলের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মতভেদ সৃষ্টি হয়,তাহলে নিজেরা বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।রাজনীতিতে বিদেশিদের নাক গলানোর সুযোগ করে দেয়া মোটেই ঠিক নয়।

আমাদের দেশে নির্বাচন এলে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের নির্বাচনমুখী দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়।বড় বড় দলের নমিনেশন পেতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করতেও পিছু হটে না।নির্বাচনে একবার জয়ী হতে পারলেই লাভ।একসঙ্গে দুই হাতে আয় করা সম্ভব।গণতন্ত্রের নামে যাদের ন্যূনতম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা,দূরদর্শিতা,দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব¡শীলতার পরিচয় নেই,এমন ধরনের প্রার্থীকেও নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেখা যায়।যাদের হাতে অবৈধ টাকার পাহাড়,তারা অর্থ দিয়ে বড় বড় দলের নীতিনির্ধারকদের বশ করে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।অতএব,দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন।অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচন অধিক গুরুত্ব বহন করে।তাই দেশ ও জনগণ সরকারের স্বার্থেই দুর্নীতিবাজ,কালো টাকার মালিক অসৎ শ্রেণির লোক ও দলকে বয়কট করার শপথ এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে।তাহলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।দুর্নীতির শক্তি দুর্বল হবে এবং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।এ দায়িত্ব¡সম্মিলিতভাবে দেশপ্রেমিক সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে পালন করতে এগিয়ে আসতে হবে।তবেই নির্বাচন ও উন্নয়ন একই সঙ্গে জাতির জন্য সফলতা বয়ে আনবে।

যতই দিন যাচ্ছে ততই নির্বাচনী হাওয়া মাঠে বইতে শুরু করেছে।আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেকেই শঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যে আছেন।নির্বাচন-পূর্ব কোন সহিংসতা,অস্থিরতা বা রাজনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয় কি না?তবে এহেন কোন অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বা কেউ সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের পরিণাম হয়তো ভালো হবে না।জনগণই তাদের উচিত জবাব দিয়ে দেবেন।কেউ জনগণকে নিয়ে তামাশা বা টালবাহানা করতে চাইলে জনগণ তাদেরকে অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করবে।পানি ঘোলা করে যদি কেউ ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে বা জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় তাহলে জনগণই তাদের উচিত শিক্ষা দিয়ে দিবেন।ইতোমধ্যে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আগামী নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত দিয়ে যাচ্ছেন।তাদের কেউ কেউ জোট ও ভোটের রাজনীতির কথা বলছেন,নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন,সব আসনে জয়লাভে আকাক্সক্ষার কথা বলছেন,নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার কথা বলছেন,কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলন নিয়ে কথা বলছেন এবং কেউ বা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ইত্যাকার বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রশ্নে জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য ও মতামত দিয়ে যাচ্ছেন।তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অধিকাংশ জনগণের ভাবনা হচ্ছে একটি সুষ্ঠু,সুন্দর, অবাধ,নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।যেখানে জনগণের স্বাধীন মতামত প্রতিফলিত হবে।জনগণ একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করে।

নির্বাচন সংঘাতমুখী হবে কিনা বা অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা ইত্যাদি নানা গুঞ্জন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।জনগণ শঙ্কামুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠু,অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়।সাধারণ মানুষের এর চেয়ে বড় কিছু চাওয়ার থাকে না।এ চাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার।এ অধিকারের প্রাপ্তি থেকে জনগণ হোঁচট খেতে চায় না।জনগণের একটি বড় অংশ হচ্ছে গরীব,অসহায়,দুঃখী ও সাধারণ মানুষ।আর সাধারণ মানুষকে সুখী করাটাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতিকদের দায়িত্ব।আর সেখানেই রাজনীতিবিদদেরও রাজনৈতিক সম্মান ও মর্যাদা।মর্যাদার এই লড়াইকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই আমাদের সকল সুশীল শ্রেণী,দেশসেবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে পরিচালিত হতে হবে-সেটাই এ ক্রান্তিকালে আমাদের সবারই কাম্য।অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী,সহনশীলতায় বলীয়ান হয়ে,আন্তরিকতা নিয়ে,হিংসা-বিদ্বেষ মুছে দিয়ে,মনের গ্লানি দূর করে,অমলিন ও উদার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নিলে একটি অবাধ,সুষ্ঠু,সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব হবে।বিভিন্ন সমালোচনা-আলোচনা,মন্তব্য-মতামত ও পর্যবেক্ষণ যাই কিছু হয়ে থাক না কেন,সবকিছুর সমাধান হচ্ছে একটি সুষ্ঠু,সুন্দর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।যার মাধ্যমে দেশ শোষণহীন বৈষম্যমুক্ত,ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।কাজেই সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে শুভ বুদ্ধির অভ্যুদয় ঘটুক-সাধারণ জনগণ আজ সে প্রত্যাশাই করছে।

লেখক:কলামিস্ট ও গবেষক,সাবেক উপ-মহাপরিচালক,বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি