কাজী ওমর ফারুক, মোংলা
গত বছেরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সুন্দরবন উপকূলে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ কারণে বাগরেহাটের মোংলার এক হাজার ১০ জন নিবন্ধিত জেলে মাছ ধরতে পারছে না। তারা অলস সময় পার করছেন। আয় রোজগার না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপনের কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিকল্প ব্যববস্থা করা হয়েছে। আট মাসে দুই দফায় জেলেদের জনপ্রতি ৮০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের ২৭০ জেলে এখনও প্রথম দফারই চাল পায়নি। অথচ এই উপজেলার অন্য দুটি ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফার চালও বরাদ্দ হয়ে গেছে, কিছু জেলে সেই চাল পেয়েছেনও।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি মোংলার সভাপতি বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিবারই নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাল পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। অন্যান্য ইউনিয়নের জেলেরা চাল পেলেও আমরা পাইনি। এনিয়ে প্রতিদিন উপজেলা মৎস্য অফিসে ঘোরাঘুরি করেও লাভ হচ্ছেনা। ছেলে মেয়েদর নিয়ে কীভাবে সংসার চলে বলেন?’
উপজেলার দক্ষিণ কাইনমারী এলাকার জেলে শিমন বিশ্বাস, কিতর বাড়ইসহ কয়েকজন জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞায় প্রণোদনার চাল না পেয়ে এখন তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পেতে চান তারা।
রবিবার এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় উপজেলা জেষ্ঠ্য মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের কাছে। চাঁদপাই ইউনিয়নের ২৭০ জেলে প্রথম দফারই চাল পায়নি স্বীকার করে তিনি দোষ চাপালেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ওপর। তিনি বলেন, ‘তাকে (চেয়ারম্যান) একাধিকবার বলা হলেও গুরুত্ব দিচ্ছেননা। তার গাফিলতির অসহায় জেলেরা প্রতিদিন অফিসে এসে ধর্ণা দিচ্ছেন।’
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপাই, বুড়িডাঙ্গা, সোনাইলতলা এবং পৌর শহরের কিছু অংশের মোট এক হাজার ১০ নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। চলমান নিষেধাজ্ঞায় এসব জেলেদের জন্য দুই দফায় এক লাখ ৬১ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম দফায় (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, মে) বুড়িডাঙ্গা, সোনাইলতলা ও পৌরসভার জেলেদের চাল দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফার চালও ঈদের দুই সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকার জেলেরা দ্বিতীয় দফার চালও পেয়েছেন।
জানতে চাইলে চাঁদপাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করতে একটু সময় লেগেছে। দু’ চারদিনের মধ্যে দিয়ে দিব।’
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপকংর দাশ বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না, এখনই চেয়ারম্যানকে বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি’। এদিকে ইউএনও’র সাথে এই প্রতিবেদকের কথা বলার ৫ মিনিট পর চেয়ারম্যান মোল্লা তরিকুল ইসলাম ফোন করে বলেন, ‘নিউজ করে বিপদে ফেইলেন না, বুধবার জেলেদের চাল দিয়ে দিব।