নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে ঘরে-বাইরে চাপের মধ্যে পড়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। আর এই চাপ উত্তরণ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে করবে- এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেই। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কি হবে না- সেটি নিয়ে যেমন এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনি সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে- তা নিয়েও নানা রকম কথা বলছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অবশ্য কৌশলগত অবস্থান হলো, যে কোনো মূল্যে নির্বাচন করে ফেলা। যারাই নির্বাচনে আসুক না কেন- তাদেরকে নিয়েই একটি দৃশ্যমান, অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন করাই আওয়ামী লীগের সর্বশেষ রাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটুকু সফল হবে- তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০১৪ এবং ২০১৮-এর নির্বাচন আওয়ামী লীগ করতে পেরেছিল, কারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি এবং আত্মতৃপ্তি ছিল। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল, জনগণের জীবনমানের কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ এখন একদিকে যেমন তীব্র লোডশেডিং, অন্যদিকে তেমনি দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে জনজীবনে অস্থিরতা। সবকিছু মিলে জনগণের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি এবং অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠছে। এর ফলে সরকারের যে বিপুল জনসমর্থন এতোদিন ছিল, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। জনসমর্থন না থাকলে বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করা কতটুকু সম্ভব হবে, সেই প্রশ্ন বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপতি হচ্ছে।
তবে সরকারের জন্য বড় চাপ হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশুগলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করার তাগিদ দিচ্ছে। আর এটি যদি আওয়ামী লীগ না করতে পারে- সেক্ষেত্রে সরকারের উপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা যে আসবে- তা বলাই বাহুল্য। নির্বাচনের আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সতর্কবার্তা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন না করা হলে তাদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নীতি সরকারের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর ভালো প্রভাব ফেলেছে। ফলে তারা আর সরকারের পক্ষে কতটুকু অবস্থান নেবেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ কতটা ঝুঁকিতে ফেলবেন- তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে। কাজেই ২০১৪ বা ২০১৮-এর মেতো পরিস্থিতি এবার হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে চাপে রয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে। সংগঠনের মধ্যে বিরোধ, কোন্দল ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছে। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সুবিধাবাদী, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়। তারা বিভিন্ন রকম সুযোগ-সবিধা লাভের জন্য নানা রকম অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এটাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শেষ সময়ে এসে কিছু কিছু মন্ত্রীর অযোগ্যতা, ব্যর্থতা প্রকটভাবে উঠে এসেছে এবং যেটি নেতা-কর্মীদের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণ এই সমস্ত মন্ত্রীদের কারণেই আওয়ামী লীগ সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারছে না বলেও অনেকে মনে করেন।
এই চাপ উত্তরণের একটি উপায়- তা হলো, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের এখন একটিমাত্র পুঁজি বা সম্পদ রয়েছে- তা হলো শেখ হাসিনা। এছাড়া তাদের নির্বাচনের মাঠে গিয়ে কথা বলার মতো আর কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হানিা একাই কি পারবেন- এ সমস্ত সঙ্কট সামাল দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে এবং আওয়ামী লীগকে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় অনতে।