বেগম খালেদা জিয়া যে কোনো সময় গুলশানে তার দলীয় কার্যালয়ে যাবেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপিতে। তার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। গুলশান কার্যালয়ে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। বেগম খালেদা জিয়া যে কক্ষটিতে বসতেন সেই তালাবদ্ধ কক্ষ খোলা হয়েছে। সাফসুতরো চলছে ঘরটিতে এবং বেগম খালেদা জিয়া যেন এখানে এসে বসতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ। তবে চিকিৎসকরা তাকে সারাদিন ঘরের মধ্যে না থেকে একটু বের হতে বলেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের একজন সদস্য বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে এখন একটু হাঁটাচলা করা, লোকজনের সাথে কথা বলতে বলা হয়েছে যাতে তিনি মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন। আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়া অফিসে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ৬ মাস আগে বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় যাওয়া রাজনৈতিক ইঙ্গিতবাহী। এর একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারের একটি গোপন সমঝোতার কথা গত কিছুদিন ধরেই রাজনীতির অঙ্গনে ফিসফাস হচ্ছে। বিশেষ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে তাকে ফিরোজায় থাকার অনুমতি দেওয়ার পরপরই সরকারের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার গোপন সম্পর্কের কথা অনেকেই আলোচনা করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের তুরুপের তাস এমন কথা কেউ কেউ বলছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিলে তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে যাওয়ার নির্দেশ দিবেন, ফলে বিএনপির নির্বাচনে আসার পথ উন্মুক্ত হবে এমন বক্তব্য কোন কোন মহল থেকে পাওয়া যায়। যদিও বিএনপি নেতৃবৃন্দ তা অস্বীকার করেন। কিন্তু কিছুদিন আগে থেকে আইনমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে বাধা নেই এমন বক্তব্য বলার পর এ নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন এবং আলোচনা চলছে। তাহলে কি সরকারের সাথে সমঝোতার চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন এমন বক্তব্য নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন।
তবে বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে বলবেন না। এরকম রাজনৈতিক বোকামি বা আত্নহনন তিনি করতে পারেন না বলেই অনেকে মনে করছেন। তবে এ ধরনের ধারণার সঙ্গে সবাই একমত নন। কেউ কেউ মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়া এখন যেকোনো মূল্যে বিদেশ যেতে আগ্রহী। আর বিদেশ যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার বিনিময়ে যদি তার বিদেশ যাওয়া হয় সেটি তিনি রাজি হবেন না এমন কথা জোর দিয়ে বা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না বলেও বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন। আবার কারো কারো ধারণা সাম্প্রতিক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন ভিসা নীতি গ্রহণ করেছেন সেই নতুন ভিসা নীতি অনুযায়ী মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো ভিসা নীতির শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের সমাবেশ করার অনুমতি দিতে বাধ্য হচ্ছে সরকার।
যেহেতু আইনমন্ত্রী বলেছেন, তিনি রাজনীতি করতে পারবেন তাই বেগম খালেদা জিয়াকে ফিরোজা থেকে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নিয়ে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান রাখতে চায় বিএনপি। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এর ফলে নেতাকর্মীরা অনেক চাঙ্গা হবে। আন্দোলনের ব্যাপারে আরও উৎসাহী হবে। বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি তাদেরকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। এ কারণেই বিএনপি সরকারের ওপর আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতির মাঠে আনছেন। কিন্তু যে কারণেই হোক না কেন বেগম খালেদা জিয়া যদি শেষ পর্যন্ত দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান তাহলে রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের মেরুকরণ হবে। সেই মেরুকরণ কার পক্ষে সেটা যখন দেখা।