আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ। আগামী মধ্য জুলাইয়ে মার্কিন একটি কুটনৈতিক প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তারা একটি সমঝোতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। এই প্রচেষ্টার সফলতার উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, নরেন্দ্র মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি এসেছে বটে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং তারা ভারতের মনভাবটি শুনেছে মাত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে তাদের নিজস্ব তাদের চিন্তা চেতনা থেকে এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করে। ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সবার আগে প্রাধান্য পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বাদ দিয়ে তারা কোনকিছুই করবে না। এরকম বাস্তবতায় নরেন্দ্র মোদির সব কথাই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুনবে এমনটি নয়।
ভারত কৌশলগত কারণে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। সে বিবেচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের সব কথা ফেলে দেবে এমনটিও ভাবার কোন কারণ নেই। ধারণা করা হচ্ছে যে, নরেন্দ্র মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফরের প্রেক্ষিতেই মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছেন এবং তারা বাংলাদেশে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করবে।
একাধিক সূত্র বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অর্থ তারা মনে করে যে, বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর এ কারণেই বিএনপি নির্বাচনে না এলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব কি হবে, সেই নির্বাচনকে তারা গ্রহণযোগ্যতা দেবে কিনা, সেটিই এখন রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বর নাগাদ।
একাধিক সূত্র বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে তিনটি কৌশল গ্রহণ করতে পারে।
১। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দুই পক্ষকে তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরিয়ে এনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জন্য পথ তৈরি করে দেয়া। যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে।
২। যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখবে যে, নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। তারপর তারা এর উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৩। এরকম নির্বাচনকে তারা নাকচ করে দিবে এবং নির্বাচনের আগেই নির্বাচন বন্ধের জন্য একটি চাপ প্রয়োগ করবে।
এখন দেখার বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিন অবস্থানের মধ্যে কোন অবস্থানটি গ্রহণ করে।
তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রথম চাওয়া হল বাংলাদেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে এবং সবগুলো রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। সে লক্ষ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। এ সফরে তারা আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ আলোচনার পর তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবে এবং সেখানে গিয়েই বাংলাদেশের ব্যাপারে তারা তাদের অবস্থান গ্রহণ করবেন।