নুরুল আমিন ভূঁইয়া দুলাল লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আগামী সপ্তাহে একনেকের বৈঠকে উঠছে ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত রায়পুরের তিনটি বাঁশ ও কাঠের ব্রীজের নির্মাণের বিষয়টি। আশা করা যাচ্ছে এতে গুরুত্ব পাচ্ছে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্নটি।
রায়পুরের কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এই ৩ ব্রীজের জন্য গ্রামবাসীর সুদীর্ঘ ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন ।
তথ্য অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয় যে গাজীনগর - আশ্রাফগঞ্জ সহ এই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত কাঠের ও বাঁশের ১টি ব্রীজ , সায়েস্তানগর - চরমোহনা ইউনিয়নের আব্দুল মতিন চৌধুরী বাড়ির সন্মুখে ১টি বাঁশের তৈরি ব্রীজ,
সুদীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে চরমোহনা-চররুহিতা সংযোগ সড়ক ভায়া কালুবেপারী হাট নিকটবর্তী ডাকাতিয়া নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায় ওই টিমের পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ, উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মুন্সী , চরপাতা চেয়ারম্যান সুলতান মামুনুর রশিদ, ১০ নং ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আজম চৌধুরী সুমন ,চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজী, ইউপি সদস্য জামাল হোসেন এলাকাবাসী।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত সে সাঁকোটি। ফলে সাঁকোটি দিয়ে সহস্রাধিক মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পারাপারের পাশাপাশি কৃষকরা তাদের ফসল নিয়ে বাড়তি প্রায় পাঁচ মাইল পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে। সঙ্গে চরম দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বার বার বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরমোহনা, দেবীপুর, শায়েস্তানগর, উত্তর রায়পুর, গাইয়ারচর, আলোনিয়াসহ পাঁচটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে রায়পুরের প্রবহমান ডাকাতিয়া নদী। নদী পারাপারের জন্য একটি সাঁকো বা ব্রিজের প্রয়োজন ছিল অত্যাবশ্যক ।
এই বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন ব্রিজের জন্য আমরা ৩০ বছর আগে থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও এলাকার সাংসদদের কাছে একাধিকবার আমাদের এই সমস্যার সমাধানের জন্য অভিযোগ করিলেও উনারা দেখছি দেখবো বলে শুধু এলাকাবাসীকে আশার বাণী শুনিয়ে গিয়েছেন।
একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ,স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর লক্ষ্মীপুরের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট হলেও পরিমাণ মত অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় নদীর উপরে ব্রীজটি আর নির্মান করা সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন নদীর উপরে ব্রীজ করতে হলে পর্যাপ্ত বাজেটের প্রয়োজন এ ছাড়া ব্রিজ করা সম্ভব নয়।
ব্রিজ সংক্রান্তের জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে দেবীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন মিয়াজী এ প্রতিবেদককে জানান, ডাকাতিয়া নদীর উপর গ্রামবাসীর ঝুঁকিপূর্ণ বাশেঁর সাঁকোটির উপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থী জনকল্যান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দেবীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয়েল শিক্ষার্থীসহ রায়পুর শহরে গ্রামবাসীরা পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নদীতে পতিত হয়েছেন। স্কুলে ও মাদ্রাসায় যাওয়ার প্রাক্কালে সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী কাঠের ও বাঁশের পাটাতন ভেঙ্গে নদীতে পড়ে গিয়ে হাতে ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছেন। মুলত: এই এলাকার গ্রামবাসীর চাঁদাই বাশেঁর সাঁকোটি নির্মানের একমাত্র ভরসা।
সাঁকোর বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলার ১০ নং ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আজম চৌধুরী সুমন এ প্রতিবেদককে জানান, কয়েকমাস আগে নদীর উপরে ওই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর জায়গায় ব্রীজ নির্মানে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে বাজেট পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মুন্সী জানান, আমি এখানে আসার অনেক আগেই ডাকাতিয়া নদীর উপর বাশেঁর তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটির কথা শুনেছি। গ্রামবাসীর উপকার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি আন্তরিক।
এ বিষয়ে আমাদের রায়পুর উপজেলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এলাকাবাসীর দাবী ছিলো এই তিনটি ব্রীজ নির্মাণ। আমি সেই দাবী গুলো আমাদের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপির সহযোগিতায় এগুলো এলজিইডির মাধ্যমে অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয় পাঠিয়েছে। সেই আলোকে জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু বিবেচনা করে এটি আগামী একনেক মিটিংয়ে উপস্থাপন হবে। তাতেই অবসান হতে পারে জনদূর্ভোগ এলাকাবাসীর।
সাঁকোটির বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশাহআলম পাটোওয়ারী বলেন , রায়পুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এর লাখ লাখ জনগনের ভোগান্তি লাগবে ৩টি সেতু স্থাপনে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । আমাদের একজন প্রজেক্ট ডিরেক্টর এবাদত হোসেন তিনি সরেজমিনে ফিজিভিলিটি পরিদর্শনে আসেন তিনি প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন আসন্ন একনেক মিটিংয়ে।